কে হিন্দু ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ?

আমার কাছে এই প্রশ্নটির উত্তর জানতে চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে ‘নন্দ গোপাল সরকার’। প্রশ্নের মধ্যে যদিও প্রতিষ্ঠাতা শব্দটি আছে, কিন্ত এটা আসলে হবে প্রবর্তক; কারণ, প্রতিষ্ঠাতা থাকে কোনো ইনস্টিউট বা প্রতিষ্ঠানের, আর প্রবর্তক থাকে কোনো মত বা পথের, প্রকৃত ধর্মের এই সব কিছুই থাকে না; কারণ, প্রকৃতি যখন যা কিছু সৃষ্টি করে বা করেছে তখন তার মধ্যেই তার পরিচালনার বিধি বিধান যুক্ত করে দিয়েই সৃষ্টি করে বা করেছে, এরপর তাতে আর বাড়তি কোনো কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন হয় না। আমার এই পোস্টটি পড়তে থাকলে এই সবগুলো বিষয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন।

নন্দ গোপাল সরকারের মতোই ক্লাস, সেভেন এইটে পড়ার সময় এক মুসলমানের মুখে এই প্রশ্ন শুনে আমিও নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। মনে আমারও প্রশ্ন জেগেছিলো সত্যিই তো হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? কারণ, তখন পর্যন্ত সব ধর্ম সম্পর্কে ডিটেইলস না জানলেও এটা জেনেছিলাম যে, ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ, খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্ট বা ঈসা নবী, বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ, তার আগের ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক মুসা, কিন্তু হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? এই প্রশ্নটা একটি ছোট হিন্দু ছেলে মেয়ের কাছে এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, সবার বাপ আছে কিন্তু তার বাপ নেই কেনো ? বিষয়টা কিন্তু গভীর চিন্তার এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও যাদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর থাকে না, তাদের জন্য আরো গভীর হতাশার।

সমাজে মান সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা বা বাস করার জন্য একটি শিশু বা বালক-বালিকার কাছে তার পিতৃ পরিচয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, সবার বাপ আছে- তাই তারও বাপ থাকা চাই, তেমনি সব ধর্মের প্রবর্তক আছে বলে, শিশু বা বালক বালিকার মতো বুদ্ধি যাদের, তাদের কাছে নিজ ধর্মের প্রবর্তক থাকাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ; একারণেই যেসব ধর্মের প্রবর্তক আছে সেগুলো শিশুসুলভ বা বালখিল্য ধর্ম হিসেবে পরিচিত হওয়ার যোগ্য এবং প্রকৃতপক্ষে সেই ধর্মগুলো তাই।

ধর্ম মানে হচ্ছে গুণ বা বৈশিষ্ট্য, আবার কোনো ব্যক্তি বা বস্তু তার নিজের সত্তায় যা ধারণ করে বা বিশ্বাস করে সেটাও তার ধর্ম। যেমন আগুনের ধর্ম পোড়ানো, জলের ধর্ম ভেজানো; আবার আগুনের ধর্ম উর্ধ্বগামী অর্থাৎ আগুন জ্বললে তার শিখা উপরের দিকে উঠবে এবং জলের ধর্ম নিম্নগামী অর্থাৎ জল সব সময় প্রাকৃতিক নিয়মে নিচের দিকে নামবে। এইভাবে প্রকৃতির সৃষ্ট প্রত্যেকটা বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম আছে, যেটা প্রকৃতি ই তাদের মধ্যে সৃষ্টি করে দিয়েছে, কোনো মানুষের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় তাদের এই স্বাভাবিক ধর্মের কোনো পরিবর্তন হবে না এবং তাদের কিছু যাবে ও আসবে না।

একই ভাবে প্রকৃতির সৃষ্ট প্রত্যেকটি গাছপালা তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে থাকে, যেমন- উপযুক্ত পরিবেশে বীজ পড়লে চারা গজায়, অনুকূল পরিবেশে বাড়ে, ফল দেয়, বাতাসে দোলে, দুর্বল গাছ ঝড়ে ভাঙ্গে, বৃষ্টির জলে তরতাজা হয়, প্রখর রোদে শুকিয়ে যায় এবং এইসব ধর্ম পালন করতে করতে নির্দিষ্ট একটা সময় পর মরে শুকিয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি বিশেষের কথায় প্রকৃতির এই গাছপালা কি তাদের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করবে ?

আবারও একই ভাবে, মানুষ ছাড়া প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীও তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে, গরু-মহিষ বছরে গড়ে একটি করে বাচ্চা ও দুধ দেয় এবং মানুষ তাদেরকে যেভাবে কাজে লাগায় সেভাবে কাজ করে, পাখিরা সন্ধ্যা হলেই বাসায় ফিরে এবং ঘুমিয়ে পড়ে এবং ঠিক ভোরে তারা কিচির মিচির শব্দে জেগে উঠে এবং সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই বাসা থেকে বেরিয়ে যায়; কোনো মানুষের কথায় প্রকৃতির এই প্রাণীগুলো কি তাদের ধর্ম বা প্রতিদিনের জীবন যাত্রার পরিবর্তন করে বা করবে ?

হিন্দু শাস্ত্র মতে পৃথিবীতে ৮৪ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী আছে এবং বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে পৃথিবীতে প্রাপ্ত মৌলিক পদার্থের সংখ্য 94 টি ( উইকিইপিডিয়া মতে), যা পৃথিবী সৃষ্টির সময় তার সাথে সাথে সৃষ্টি হয়েছে, এই প্রত্যেকটা মৌলিক পদার্থের নিজ নিজ ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য আছে; সবগুলোর তো আর উদাহরণ দেওয়া সম্ভব নয়, একটির উদাহরণ দিই- লোহার ধর্ম কাঠিন্যতা বা শক্ত। এখন পৃথিবী উল্টে গেলেও লোহা কি তার এই ধর্ম পরিত্যাগ করবে ? লোহাকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা তাপ দিয়ে লোহাকে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য নরম করতে পারি বা তার রং পাল্টে কিছুটা লাল করতে পারি, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিলেই লোহা তো আবার তার শক্ত রূপ এবং কালচে রং ই ধারণ করবে। তার মানে হলো প্রকৃতিতে সৃষ্ট প্রতিটা উপাদান বা জীবের নিজ নিজ ধর্ম বৈশিষ্ট্য আছে, যেটা সৃষ্টির সময় প্রকৃতি নিজেই তার মধ্যে ভ’রে দিয়েছে। এই সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষ কি প্রকৃতির বাইরে ? নিশ্চয় নয়। তাহলে বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ সৃষ্টির সময় প্রকৃতি নিজেই তার মধ্যে তার কর্তব্য কর্ম অর্থাৎ বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম ভ’রে দেবে না কেনো ?

পৃথিবীতে সৃষ্ট প্রতিটি প্রাণীর মতো মানুষও তার আবির্ভাবের সাথে সাথে কিছু জৈবিক ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য, যেমন-ক্ষুধা পেলে খাওয়া, টিকে থাকা বা বেঁচে থাকার চেষ্টা করা, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়া, একটা নির্দিষ্ট বয়সে দেহে ও মনে যৌনতার অনুভব করা এবং একটা সময় মরে যাওয়া- এই জৈবিকধর্মগুলো সাথে করে এনেছিলো, যা প্রতিটি প্রাণীর স্বাভাবিক ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য; কিন্তু মানুষের উন্নত মস্তিষ্ক্য সৃষ্টির সাথে সাথে মানুষ যখন ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে শিখলো, তখন জৈবিক ধর্ম ছাড়াও মানুষের মনে এক নতুন ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হলো, যাকে বলা হয় মানবধর্ম। আর এই মানব ধর্মের সৃষ্টি হয়েছিলো, পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা, আর্যসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের মুনি ঋষিদের দ্বারা; প্রকৃতির নির্যাস থেকে সংগৃহীত মুনি-ঋষিদের উপলব্ধিজাত এই সব বৈশিষ্ট্য বা ধর্মই হলো সনাতন ধর্ম, যার বর্তমান নাম হিন্দু ধর্ম।

অর্থাৎ আধুনিক মানুষ তার বর্তমান দেহের আকৃতি মোটামুটি ২০ লক্ষ বছর আগে লাভ করলেও, বিবর্তনের ধারায় উন্নত মস্তিষ্ক্য সম্পন্ন মানুষের জন্ম হয় মোটামুটি ১০/১২ হাজার বছর আগে এবং এরাই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরতে ঘুরতে এদেরই কোনো একটি দল মোটামুটি ৮/১০ হাজার বছর আগে সিন্ধু নদের তীরে এসে বসবাস করতে থাকে এবং গড়ে তুলে সিন্ধুসভ্যতা বা আর্যসভ্যতা, যে সভ্যতা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা এবং যে সভ্যতার লোকজন এখনও টিকে আছে হিন্দু নামসহ, মোটামুটি মান সম্মান নিয়ে এবং মাথা উঁচু করে।

পৃথিবীতে পাখি সৃষ্টি হওয়ার পর যেমন পাখির ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়েছে, তেমনি এটাও তো স্বাভাবিক যে, মানুষ যখন বুদ্ধিমান হয়ে সভ্যতা নির্মান করেছে, তখনই সেই সভ্যতা অনুযায়ী তাদের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়েছে, এই ভাবেই সনাতন মানব ধর্মের আবির্ভাব বা সৃষ্টি, যে ধর্মের বিধি বিধান রচিত বা সংকলিত হয়েছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ পুষ্ট মুনি-ঋষিদের দ্বারা, তাই সনাতন মানব ধর্মের কোনো একক প্রবক্তা নেই; কারণ, এই ধর্ম প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে প্রাকৃতিক। আর যা কিছু প্রাকৃতিক তার জন্য কোনো একক মানুষের মত বা বিধান অর্থহীন।

এবার একটা সিম্পল উদাহরণ দিই, মনে করুন আপনি একটা স্কুল তৈরি করলেন, তাহলে স্কুল পরিচালনার বিধি বিধানও আপনি সাথে সাথেই তৈরি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কোনো কারণে কি আপনি স্কুল তৈরি করার ৫/১০ বছর পর সেই বিধি বিধান তৈরি করবেন ? কখনোই নয়, কারণ তাহলে আপনার সৃষ্টি করা স্কুল চলবেই না বা চালু করলেও নিয়ম কানুনের অভাবে তা ভেঙ্গে পড়বে। সেই ভাবে এটা খুব স্বাভাবিক যে, সৃষ্টিকর্তা এই পৃথিবীতে যখন আধুনিক বুদ্ধিমান মানুষের সৃষ্টি করেছে, তখনই বা তার কিছু পরেই তাদের জন্য পালনীয় সব বিধি বিধান সৃষ্টি করেছে; তা না করে সৃষ্টিকর্তা কেনো ৩ হাজার বছর পূর্বে ইহুদি ধর্ম, আড়াই হাজার বছর পূর্বে বৌদ্ধধর্ম, ২ হাজার বছর পূর্বে খ্রিষ্টান ধর্ম এবং দেড় হাজার বছর পূর্বে ইসলাম ধর্মের সৃষ্টি করতে যাবে ?

যদি এই ধর্মগুলো সত্যি হয়, তাহলে তার আগের মানুষগুলো কী অপরাধ করেছে ? এরা তো সবাই বলে যে, তাদের ধর্ম পালন না করলে কেউ মুক্তি বা স্বর্গ পাবে না, তাহলে ৩ হাজার বছর আগে যে মানুষগুলো জন্ম নিয়ে মরে গেছে তাদের কী হবে ? তাদের মুক্তির বা স্বর্গ লাভের উপায় কী ? এদের ধর্মের সৃষ্টিকর্তা ই যদি প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা হয়, তাহলে ৩ হাজার বছর আগের মানুষগুলোর সাথে কি এই সৃষ্টিকর্তা অন্যায় করে নি ? কিন্তু প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা কি মানুষের সাথে অন্যায় করতে পারে ? না, পারে না; এজন্যই হিন্দু ধর্মের ঈশ্বর গীতায় বলেছে,

“কেউ আমার কাছে প্রিয় নয়, কেউ অপ্রিয়ও নয়”

যখন কোনো ব্যক্তি পৃথিবীতে কোন মত, পথ বা ধারণার জন্ম দেয়, তখন তাকে বলে ‘ইজম’ (Ism)। যেমন কার্ল মার্কস এর মতবাদের নাম, মার্কস+ইজম = মার্ক্সিজম, এই সূত্রে যেসব ব্যক্তিমত পৃথিবীতে ধর্ম নাম নিয়ে চলছে, যেমন- ইসলাম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি বা এরকম প্রায় ৪২০০ টি, তার একটাও রেলিজিয়ন অর্থে ধর্ম নয়, এগুলো ইজম অর্থে এক একটি মতবাদ। কারণ, উপরেই আলোচনা করেছি, প্রকৃতিসৃষ্ট পদার্থ বা প্রাণীর মধ্যে ধর্মের সৃষ্টি করা মানুষের কাজ নয়, ওটা প্রকৃতির কাজ। তাই মানুষ যা সৃষ্টি করে সেটা মত বা পথ এবং প্রকৃতি যা সৃষ্টি করে সেটা ধর্ম। একারণেই হিন্দু ধর্মের কোনো প্রবর্তক নেই, কারণ হিন্দু ধর্ম প্রকৃতির সৃষ্টি মানুষের জন্য প্রকৃতির ধর্ম। এই জ্ঞান বা বোধ অতি উচ্চ মানের ধারণা, সাধারণভাবে শিশু বা বালকদের পক্ষে এই জ্ঞান বা ধারণাকে হৃদয়াঙ্গম করা কঠিন- যদি তারা সঠিক শিক্ষক বা গুরুর হাতে না পড়ে। তাই ব্যক্তিমতের ধর্মের অনুসারীরা তাদের শিশুসুলভ জ্ঞান দিয়ে হিন্দু ছেলে-মেয়েদের এই স্বল্পজ্ঞানের সুযোগ নিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন করে যে হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? কিন্তু প্রবর্তক না থাকার কারণেই যে হিন্দু ধর্ম প্রকৃত ধর্ম এবং প্রবর্তক থাকার কারণেই যে তাদেরগুলো কোনো ধর্ম নয়, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মত বা পথ, সেটা হয়তো তারা নিজেরাই জানে না। হিন্দুধর্ম প্রকৃতির ধর্ম বলেই প্রকৃতির সকল কিছু এই ধর্মের পূজা প্রার্থনার বিষয় এবং একজন হিন্দুকে তার জীবনাচরণের জন্য কোনো কিছু কোনো ব্যক্তিমতের ধর্মের কাছ থেকে ধার করতে হয় না বা হবে না। কিন্তু সকল ব্যক্তিমতের ধর্মকে অনেক কিছু হিন্দু ধর্মের কাছ থেকে ধার করে চলতে হয় বা হবে।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, হিন্দুধর্মের মুনি-ঋষিরাও এই পৃথিবীর মানুষ আবার ইসলাম-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন মতবাদের প্রবর্তকরাও এই পৃথিবীর মানুষ। তাহলে মুহম্মদ-যীশু-বুদ্ধ প্রমুখেরা যদি তথাকথিত ঐ সব ধর্মের প্রবর্তক হয়, হিন্দুধর্মের মুনি-ঋষিরা হিন্দুধর্মের প্রবর্তক নয় কেনো ?

এর সহজ উত্তর হচ্ছে, হিন্দুধর্ম ছাড়া ব্যক্তিমতের ধর্মগুলো কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার ফল, উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, মুহম্মদের কাছে যা কিছু পছন্দের ছিলো তার সব কিছু মুসলমানদের জন্য জায়েজ বা হালাল, আর যা কিছু তার অপছন্দের ছিলো তা মুসলমানদের জন্য হারাম; এই হারাম হালাল নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন করারও অধিকার নেই। এককথায়, ইসলাম- লোভ বা ভয়ের মাধ্যমে পুরোপুরি মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া একটা বিধান; অন্যান্য ব্যক্তিমতের ধর্মগুলোও এর বাইরে কিছু নয়। কিন্তু হিন্দু ধর্মের কোনো কিছুই মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া কিছু নয়, এগুলো মানুষের সাধারণ প্রবৃত্তির একটি সংবিধিবদ্ধ রূপ মাত্র, আমাদের মুনি ঋষিরা জাস্ট এই কাজটিই করেছে, তারা নিজেদের থেকে কোনো কিছু মানুষের উপর চাপিয়ে না দিয়ে মানুষ হিসেবে প্রতিটা মানুষের কী কর্তব্য-অকর্তব্য তা লিপিবদ্ধ করেছেন শুধু।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটা মানব শিশুর জন্মের পর তাকে যদি সাধারণভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া যায়, সে মানবীয় সব গুনাবলি, যেমন- মানুষসহ সকল পশু পাখির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠবে, বিনা কারণে তাদেরকে হত্যা করা দূরে থাক, তাদেরকে আঘাত করে আহতও করবে না। একারণেই বাল্যকালে গৌতম বুদ্ধ, তীর বিদ্ধ একটি পাখিকে সুস্থ করে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলো, আর একারণেই এখনও যেকোনো মুসলিম পরিবারের ছোট ছেলে মেয়েরা কুরবানীর জন্য কিনে আনা গরু ছাগলকে জবাই করতে দিতে চায় না, জবাই না করার জন্য কান্নাকাটি করে, কিন্তু যখন সে একটু বড় হয় এবং তার মাথায় ঢোকানো হয় যে, কুরবানীর নামে গরু ছাগলকে জবাই করা কোরানে আল্লার নির্দেশ, এই নির্দেশ না মানলে তারা আর মুসলমান থাকবে না এবং এর ফলে তারা বেহেশতে না গিয়ে জাহান্নামে যাবে আর সেখানে অনন্তকাল ধরে আগুনে পুড়বে, তারপরই তারা হয়ে উঠে মুসলমান নামের এক একজন জল্লাদ বা ঘাতক এবং তারপর তাদের কাছে গরু-ছাগল জবাই করা তো সামান্য ব্যাপার, জঙ্গী হয়ে মানুষ জবাই করতেও তাদের বুক ও হাত কাঁপে না।

এছাড়াও ব্যক্তিমতের ধর্মগুলো একজন মানুষের চিন্তাভাবনার ফল বা ফসল, তাই এগুলোতে ভুল ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, আছেও তাই। এজন্য কোনো ব্যক্তিমতের ধর্মই প্রশ্নের উর্ধ্বে নয়, এগুলো নিয়ে রয়েছে শত শত প্রশ্ন। কিন্তু প্রকৃত সনাতন মানবধর্ম নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন করার কোনো অপশনই নেই; বর্তমানে হিন্দুধর্ম নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠছে, সেগুলো হলো হিন্দুধর্মকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা হিসেবে হাজার বছর ধরে হিন্দুবিরোধীদের দ্বারা হিন্দুধর্মের বিকৃতির ফল মাত্র।

মানুষ প্রকৃতির সৃষ্টি এবং প্রকৃতির সৃষ্টি বলেই কোনো অঙ্গ কেটে মানুষকে বিকৃতি করা সনাতন মানব ধর্মে নিষেধ। কারণ, ডারউনের বিবর্তনবাদ বলে, যোগ্যতমরাই পৃথিবীতে টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। আর প্রকৃতি বর্তমানে যেভাবে যে প্রাণীকে সৃষ্টি করছে সেভাবেই সে সম্পূর্ণ ফিট। নবী ইব্রাহিম প্যাঁচে পড়ে, প্রথমে, বৃদ্ধ বয়সে করিয়েছিলো নিজের খতনা এবং সে তার অনুসারীদের তা করার নির্দেশ দেয় এবং সেখান থেকে মুসলমানরা এই প্রথাকে গ্রহন করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইহুদি, খ্রিষ্টান বা ইসলাম যদি প্রকৃত অর্থে সত্য ধর্ম হয়, তাহলে সেই সব ধর্মের বিধানকে মেনে তাদের সৃষ্টিকর্তা- ইহুদি, খ্রিষ্টান বা মুসলমান ঘরের পুরুষ সন্তানদেরকে খতনাসহ জন্ম না দিয়ে হিন্দুরূপে জন্ম দিচ্ছে কেনো ?

আবার ইসলামে দাড়ি রাখার নির্দেশ কিন্তু গোঁফ কেটে ফেলার আদেশ, তাহলে মুসলমানদের গোঁফ জন্মায় কেনো ? কিন্তু হিন্দুদের এ সম্পর্কিত কোনো আদেশ নির্দেশ নেই, এটি প্রকৃতির বিধান যে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে গোঁফ দাড়ির জন্ম হবে, এখন ইচ্ছা হলে তুমি সেটা রেখে দাও বা কেটে ফেলো, সেটা তোমার ব্যাপার। প্রকৃতির এই বিধানের উপর- যে বিধান হাত ঘুরায়, সেটা আবার কেমন ধর্ম ? সৃষ্টিকর্তার উপর মাস্তানি ? বিধান তো দিয়েছিস গোঁফ না রাখার এবং লিঙ্গের চামড়া কেটে ফেলার, তো এই ভাবে একটা মুসলমানের জন্ম দিয়ে দেখা, তাহলে বুঝবো ইসলাম সত্য ধর্ম; ইসলামের আবির্ভাবের তো প্রায় দেড় হাজার বছর হতে চললো, কত দিন আর মুসলমানদের হিন্দু হিসেবে জন্ম হবে ?

আজকের টপিক হচ্ছে, হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? এখন এ ব্যাপারে উপসংহারে আসা যেতে পারে। উপরে আমি বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে যে কথাটি বলার চেষ্টা করেছি, তা হলো প্রকৃতির সৃষ্ট বিভিন্ন পদার্থ ও প্রাণীর নিজ নিজ ধর্ম আছে, যা প্রকৃতিই তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে; তেমনিভাবে প্রকৃতির সৃষ্ট সনাতন মানবধর্মের বিধি বিধানও প্রকৃতিই নির্ধারিত করে দিয়েছে, একারণেই হিন্দুধর্ম হচ্ছে প্রকৃতি সৃষ্ট মানুষের একমাত্র ধর্ম, আর এই কারণেই যে ধর্মগুলোর পিতৃপরিচয়ের মতো প্রবর্তক আছে, সেগুলো কোনো ধর্ম নয়, সেগুলো একট একটি মত বা পথ, এককথায় ইজম।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক, বাঘ সিংহের জন্য প্রকৃতি সৃষ্ট ধর্ম হচ্ছে তৃণভোজী প্রাণীদেরকে হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়া। এতে কিন্তু বাঘ সিংহের জন্য কোনো অন্যায় নেই। কারণ, প্রকৃতি ই তাদের জন্য এই নিয়ম তৈরি করে দিয়েছে। আবার মানুষও প্রয়োজনে তৃণভোজী প্রাণীদেরকে হত্যা করে খেতে পারে, এটাও প্রকৃতির বিধান। এই বিধানের কথা ই বলা আছে বেদ এ

“জীবস্য জীবস্মৃতম”

অর্থাৎ- জীবন ধারণের জন্য এক জীব অন্য জীবকে আহার করবে খাদ্য রূপে ।
কিন্তু মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে আপনি অন্য মানুষকে বিনা কারণে হত্যা করতে পারেন না বা কোনোভাবে কাউকে কষ্ট দিতে পারেন না, এটাই মানুষের জন্য প্রকৃতির বিধান। প্রকৃতির এই বিধানের কথাও বলা হয়েছে হিন্দু শাস্ত্রে-

“পরোপকারঃ পুন্যায়, পাপায় পরপীড়নম্।”

অর্থ : অন্যের উপকার করা ধর্ম, অন্যের অপকার করা অধর্ম।

এছাড়াও বলা হয়েছে,

“পরদ্রব্যেষু লোষ্ট্রবৎ”

অর্থাৎ- পরের দ্রব্যকে মাটির ঢেলার মতো জানবে। এবং
“মাতৃবৎ পরদারেষু, কন্যাবৎ পরকন্যাষু”
অর্থাৎ- পরের স্ত্রী কন্যাদেরকে মায়ের মতো দেখবে।

এখন একটু ভেবে দেখুন, আপনি যদি অন্যের সম্পদকে মাটির ঢেলা বিবেচনা করে সেগুলোর প্রতি লোভ না দেখান, অন্যের স্ত্রী-কন্যাকে যদি নিজের মায়ের মতো বিবেচনা করে তাদেরকে হরণ ও ভোগের কথা চিন্তা না করেন, তাহলে কিন্তু কাউকে আপনার হত্যা করা কথা চিন্তা করতেই হবে না, এককথায় এই দুটি বিধানকে মেনে চললে কাউকে আপনার পীড়া দিতে হবে না। বর্তমান বিশ্বের তথা আধুনিক সভ্যতার মানবতাবাদ কিন্তু এই তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল, যেগুলোর কথা হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে মানব সভ্যতার শুরুতেই, অর্থাৎ মানুষের কী করণীয় তার মূল কথা বলে দেওয়া হয়েছে মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার সাথে সাথেই, এই বিধানগুলোই প্রকৃতির বিধানএবং এগুলোই মানুষের জন্য প্রকৃতির ধর্ম।

এখন আপনি আর একটু চিন্তা করুন, কোনো ব্যক্তিমতের ধর্ম কি এই মহান বিধানগুলো দিতে পেরেছে- যা সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে ? মুসলমানরা তাদের মূল থেকে সরে আসছে না বলে, এখন হয়তো ইসলামের মানবতা বিরোধী- হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, দখলের- বিধানগুলো বেশি আলোচিত হচ্ছে; কিন্তু ইহুদি এবং খ্রিষ্টান মতবাদও এই- হত্যা, লুণ্ঠন ও দখলে কম যায় না। কিন্তু যেহেতু তারা তাদের ধর্মের বিধান ছেড়ে সনাতন মানবতাবাদের কাছে ফিরে আসছে, তাই তাদের বিধানগুলো এখন আর বেশি আলোচিত হচ্ছে না।

উপরে মানবধর্মের যে তিনটি মূল বিধানের কথা বললাম,

“পরোপকারঃ পুন্যায়, পাপায় পরপীড়নম্।”
“পরদ্রব্যেষু লোষ্ট্রবৎ”
“মাতৃবৎ পরদারেষু, কন্যাবৎ পরকন্যাষু”

এগুলো নিয়ে সারা পৃথিবীর কোনো লোকের কি কোনো প্রশ্ন আছে, যে এই বিধানগুলো ঠিক নয় বা এগুলো এই রকম না হয়ে অন্যরকম হতে পারে বা পারতো ?

না, নেই।
কিন্তু ব্যক্তিমতের প্রতিটা মতবাদ, যাকে এখন গায়ের জোরে বলা হচ্ছে ধর্ম, সেগুলো নিয়ে শত শত প্রশ্ন আছে। সেজন্য এখন প্রশ্নই হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকবে কেনো ? আপনি কি মানুষ ছাড়া, প্রকৃতি জাত ১০৫ টা মৌলিক পদার্থ এবং অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেন বা প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা রাখেন ?

এখানেও উত্তর হচ্ছে, না। তাহলে যে বিধি-বিধানগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়, সেগুলোকে আপনি ধর্ম বলছেন কেনো বা সেই ব্যক্তিমতগুলোকে ধর্ম বলে আপনার কাছে মনে হচ্ছে কেনো ?

বর্তমানে, এই যে সমগ্র পৃথিবীর সুশিক্ষিত, সুসভ্য মানুষদের মানবতাবাদের দিকে আগমন, এটাই কিন্তু সনাতন মানবধর্ম, যার প্রবক্তা আমাদের মুনি-ঋষিরা। এখন আপনি বলতে পারেন, তাহলে এই সনাতন মানবধর্মের মধ্যে পূজা পার্বন এলো কোথা থেকে ? এগুলো জাস্ট এক একটা উৎসব, আর কিছুই নয়। সাধারণ জীবন যাত্রায় মানুষের একঘেঁয়েমী কাটাতে বিজ্ঞান যেমন মানুষের জীবনে যুক্ত করছে মানুষেরই চাহিদা মতো একের পর এক যন্ত্র- ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশন, কম্পিউটার ইত্যাদি, তেমনি যুগের প্রয়োজনে মানুষই তাদের নিজেদের প্রয়োজনে সমাজ জীবনে যুক্ত করেছে একের পর এক অনুষ্ঠান, কিন্তু ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সেগুলোকে ধর্মের ছাঁছে ফেলে ধর্মীয় রূপ দিয়েছে মাত্র, যাতে মানুষ সেগুলো নিষ্ঠা নিয়ে পালন করে এবং পরম্পরা নষ্ট না হয়। এই যেমন- ভারতবর্ষে গুপ্ত যুগের আগেও মূর্তি পূজার তেমন প্রচলন ছিলো না, আবার এই বাংলায় ৫০০ বছর আগেও দুর্গা পূজা ছিলো না, এখনও বাঙ্গালি হিন্দু ছাড়া এই দুর্গা পূজার উৎসব সারা পৃথিবীতে কেউ পালন করে না; তাতে কারো কি কোনো অসুবিধা হচ্ছে ? সারা পৃথিবীর মানুষ যে যার মতো করে তাদের উৎসব তৈরি করে নিয়েছে; ধর্মের মোড়কে হোক আর সাধারণভাবেই হোক প্রতিটা জাতির প্রতিটি উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের জীবনে একটি চেঞ্জ আনা, আর কিছুই নয়। আর কোনো উৎসবে, এর চেয়ে বেশি কিছু মানুষের অর্জনও হয় না।
এখন সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু ধর্ম হচ্ছে মানবতাবাদ বা মানবধর্ম, এই মানবধর্ম কিন্তু হিন্দুধর্মের বাইরে কিছু নয়; কারণ, মানবতাবাদের যে দুটি মূল সূত্র- পরের দ্রব্যকে মাটির ঢেলার মতো জানবে আর পরের স্ত্রী কন্যাকে মায়ের মতো দেখবে- তা হিন্দু ধর্মেরই মূল কথা; কারণ, হিন্দুধর্মের অপর নাম হচ্ছে সনাতন মানবধর্ম। এবং যেহেতু মানবতাবাদের এই মূল দুটি কথা ব্যক্তিমতের কোনো ধর্ম প্রবর্তক বলতে পারে নি, তাই সেগুলো কোনো ধর্মই নয়, সেগুলো চিরদিনই ‘ইজম’ আর কোনো একক প্রবর্তক নেই বলেই প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুনি-ঋষিদের চিন্তাভাবনার সার সংক্ষেপ, হিন্দুধর্ম নামের আড়ালে থাকা সনাতন মানবধর্মই পৃথিবীর একমাত্র প্রকৃত ধর্ম; কারণ, এর সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতি নামের ঈশ্বর।
হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? এই প্রশ্নের উত্তরে এককথায় বলা যায়, ধর্ম যেহেতু ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার ব্যাপার, তাই তার কোনো প্রবর্তক থাকতে পারে না বা প্রবর্তক হয় না। আবার এই প্রশ্নের উত্তরে উল্টো  এই প্রশ্নও করা যায়, ঈশ্বরের সৃষ্ট ধর্মের জন্য প্রবর্তক হিসেবে কোনো মানুষ থাকবে কেনো বা ধর্মের প্রবর্তক থাকার প্রয়োজন কী ? ধর্মের থাকে সৃষ্টিকর্তা, তাই ধর্মের কোনো একক প্রবর্তক অর্থহীন; একারণেই মানুষ যখন কোনো কিছু প্রবর্তন করে তখন তা আর ধর্ম হয় না, হয় মত বা পথ। আর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে ঈশ্বর যখন কোনো পদার্থ বা জীবের জন্য কোনো বিধান তৈরি করে দেয় তখন তা হয় বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম, এই সূত্রে প্রকৃতির ধর্ম, সনাতন মানবধর্মের সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং ঈশ্বর; তাই হিন্দু ধর্মের কোনো প্রবর্তক নেই, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আছে এবং সেই সৃষ্টিকর্তা অন্যান্য ধর্মের প্রবর্তকেরও সৃষ্টিকর্তা, একারণে ব্যক্তিমতের ধর্মগুলো যদি হয় একে অপরের ভাই, তাহলে হিন্দুধর্ম হলো ঐসব ভাইদের জন্মদাতা অর্থাৎ বাপ।

Most Popular

চোখের সমস্যাগুলি দূর করতে ৫টি টিপস অনুসরণ করুন

আজকাল বেশিরভাগ মানুষ চোখের সমস্যায় ভোগে। চোখ জ্বালা, চোখে জল এবং চোখ ফোলা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। এর কারণ হল এখন লোকেরা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময়...

‘কোয়ারেন্টাইন ট্র্যাকার’ অ্যাপ প্রবাসীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো বিদেশফেরত প্রবাসীরা। পৃথিবীর অনেক দেশকেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।যাদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে...

স্মার্টফোন জায়ান্ট উৎপাদন বন্ধ করছে

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে ভারতে কারখানার কার্যক্রম সাময়িক গুটিয়ে নিয়েছে স্যামসাং, অপোর মতো  বৈশ্বিক স্মার্টফোন জায়ান্ট। ফলে ভারতের মাটিতে এসব প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলো এখন বন্ধ...

সরিষা শাক এর উপকারীতা সম্পর্কে জেনে নিন

শীতকালে সরিষার শাকগুলি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সরিষা শাকগুলিতে আয়রন, ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার, ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন রয়েছে। সরিষার শাক খেলে আপনি হাঁপানি, হার্টের রোগ এবং...