আর নেই জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী

|

জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী

জাতীয় অধ্যাপক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জামিলুর রেজা চৌধুরী আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে তিনি ইন্তেকাল (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) করেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরীর আত্মীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এই তথ্য জানান।
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, জামিলুর রেজা চৌধুরী গত রাতে ধানমন্ডিতে তাঁর বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। ভোরবেলায় তাঁর স্ত্রী তাকে ডেকেছিলেন। কোনও সাড়া না পেয়ে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন যে তাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

জামিলুর রেজা চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। আজ বাদ জোহর জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

জামিলুর রেজা চৌধুরী সবশেষ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরী বাংলাদেশের প্রকৌশল জগতে সবার পরিচিত নাম। একাধারে তিনি গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী ছিলেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালে, সিলেটে। তাঁর বাবা আর ভাইসহ পরিবারের অনেক সদস্যই প্রকৌশলী ছিলেন। বড় হয়ে তাঁর বাবা ও ভাইদের মতো তিনিও বেছে নেন এই পেশা।

জামিলুর রেজা চৌধুরী স্বাধীনতার পরে দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শারীরিক অবকাঠামোতে জড়িত ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের বিশাল কাজে হাত দিয়েছেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরী একসময় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ডাক পেয়েছিলেন বিখ্যাত আরেক বাংলাদেশি প্রকৌশলী এফ আর খানের কাছ থেকে।

জামিলুর রেজা চৌধুরীর প্রায় ৭০ টি গবেষণা নিবন্ধ দেশ বিদেশে তাঁর বিভিন্ন অবদানের জন্য প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি বহু পুরষ্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ইনস্টিটিউট স্বর্ণপদক, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একমাত্র বাংলাদেশী সম্মানসূচক ডক্টর অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি।

একসময় বুয়েটে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। দায়িত্ব পেয়েছিলেন ১৯৯৬ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও। উপাচার্য ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আর্থকোয়েক সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অনেক দিন ধরে।










Leave a reply